
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসে লাগা আগুন ২০ ঘণ্টা পেরিয়েও নেভানো যায়নি। এ পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলের চারপাশে ২০০ থেকে ২৫০ মিটার এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট। তবে আগুন জোর করে নেভানোর চেষ্টা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, ভূগর্ভের যে স্তর থেকে গ্যাস বের হচ্ছে, সেই স্তরের গ্যাস শেষ হলে আগুন স্বাভাবিকভাবেই নিভে যাবে। এর আগে জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে ভূগর্ভে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে এলাকাটি বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, ইনানীর ঘটনাস্থলের ২০০ থেকে ২৫০ মিটারের মধ্যে জনসমাগম না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগুন নিভে যাওয়ার পর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানীর ছোট ব্রিজসংলগ্ন একটি বসতভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য খননকাজ চলার সময় মাটির নিচ থেকে তীব্র গন্ধযুক্ত গ্যাস বেরিয়ে আসে। এরপরই নলকূপের মুখে আগুন জ্বলে ওঠে। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান তাঁরা। প্রাথমিকভাবে ভূগর্ভে গ্যাসের উপস্থিতির কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্যাসের স্তর কতটা বিস্তৃত, সেখানে কী পরিমাণ গ্যাস রয়েছে এবং আগুন নিভতে কত সময় লাগতে পারে, তা জানতে বাপেক্সের প্রতিনিধিদল পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নলকূপের গভীর থেকে গ্যাসের উদ্গিরণ বেড়েছে। এতে আগুনের তীব্রতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এদিকে আগুনের শিখা বিদ্যুতের খুঁটি ও তারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। আগুনের ঝুঁকি নিরূপণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।